লালদিয়া-বন-ও-সমুদ্র-সৈকত-বরগুনা

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে লালদিয়ার বন। সুন্দরবনের হরিণঘাটার মধ্য দিয়ে দুই ঘণ্টা পায়ে হেঁটে বন পার হয়ে গেলে পাওয়া যায় এই লালদিয়া। এ বনের পূর্বে বিশখালী নদী এবং পশ্চিমে বলেশ্বর নদী । দুই নদী ও সাগরের মোহনা এ বনকে ঘিরে রেখেছে । বন সংলগ্ন পূর্ব প্রান্তে সমুদ্র সৈকত। সমুদ্র সৈকতটি বেশ ছোট। তবে ছোট হলেও সৌন্দর্য কোন অংশে কমতি নেই। এখানে বিভিন্ন রকমের পাখির কলকাকলি এবং সমুদ্রের গর্জন শুনে পর্যটকরা হবেন বিমোহিত এবং ফিরে আসবেন বারে বারে। এখানে সাগরের নোনা জল এসে আছড়ে পরছে বালুকাবেলায়। উড়ে যায় গাংচিল আর হাজার হাজার লাল কাকড়ার দল ছুড়ে বেড়ায় বেলাভুমিতে। সে এক নান্দনিক দৃশ্য। মনকাড়া অনুভুতি যা আপনাকে আবারও কাছে টানবে বার বার।

লালদিয়া সৈকতের পাশেই রয়েছে একটি শুটকি পল্লী। সৈকত ঘেরা লালদিয়ার চরে বছরে কার্তিক মাস থেকে শুরু হয়ে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে শুঁটকি চাষ। এখানে যে শুঁটকি প্রস্তুত করা হয় তার ৯০ ভাগই হয় হাঁস-মুরগির খাদ্যের জন্য, বাকি ১০ ভাগ আমরা খাই। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে শুঁটকির কারবার চলে আসছে।

ঢাকা হতে সড়ক ও নৌ উভয় পথেই বরগুনা যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন সকাল এবং রাতে উভয় সময় ছেড়ে যায়। দ্রুতি পরিবহন(০১১৯৬০৯৫০৩৩) সকাল সাড়ে ৮টায় এবং একই সময় রাতে বরগুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, সাকুরা পরিবহন(০১১৯০৬৫৮৭৭২, ০১৭২৫০৬০০৩৩) গাবতলী থেকে সকাল এবং রাত পৌনে ৯টায় এবং সায়েদাবাদ বাসস্টান্ড থেকে সকাল ও রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যায় এছাড়াও আবদুল্লাহ পরিবহনসহ(০১৭১০৬২৫৮০৯)বেশ কয়েকটি পরিবহন ঢাকা-বরগুনা রুটে চলাচল করে। আপনি চাইলে নদী পথেও বরগুনা যেতে পারেন। একদিন পর পর ‘এম ভি বন্ধন-৭’(০১৮২১১৬৫৮৭৫) নামে একটি লঞ্চ ঢাকার সদরঘাট নদীবন্দর থেকে বরগুনা যায়। লঞ্চই আরামদায়ক বাহন।

বরগুনা হতে ট্রলার কিংবা নৌকা ভাড়া করে যাওয়া যায় লালদিয়া বনে। অথবা সুন্দরবনের হরিণঘাটা দিয়ে হেটেও যাওয়া যায় লালদিয়া বন ও সমুদ্র সৈকতে। যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

আমতলী উপজেলায় ভাল মানের তেমন কোন হোটেল নেই। থাকতে হবে বরগুনা শহরে। বরগুনায় রাত্রিযাপন ব্যবস্থা খুবই ভাল। অনেকগুলি রেস্ট হাউস আছে।

তবে লালদিয়া থেকে কুয়াকাটার দুরত্ব মাত্র ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টার। সুতরাং ইচ্ছে করলে কুয়াকাটাও থাকতে পারেন। কুয়াকাটা থাকাই সবচেয়ে উত্তম। তাতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতটাও দেখা হয়ে যাবে।