দুর্গাসাগর

ঐতিহাসিক নিদর্শনসমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বরিশাল। বর্তমানে বিভাগীয় শহর। এই বরিশাল জেলার একটি ইউনিয়ন মাধবপাশা যা শহর হতে মাত্র ১২ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। চন্দ্রদ্বীপ রাজারা এখানে প্রায় ২০০ বছর রাজ্য শাসনামলে তৈরি করেন বিশাল মাপের একটি দীঘি। মাধবপাশার নয়নাভিরাম দুর্গাসাগর দীঘি সেই রাজাদেরই এক কীর্তি।

প্রতি শীত মৌসুমের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে এখানে নানান প্রজাতির পাখি আসে দূগর্াসাগর দীঘিতে। সরাইল ও বালিহাঁসসহ নানান প্রজাতির পাখি দীঘির মাঝখানে ঢিবিতে আশ্রয় নেয়। সাঁতার কাটে দীঘির স্বচ্ছ, স্ফটিক পানিতে। কখনোবা হালকা শীতের গড়ানো দুপুরে ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলে দেয় আকাশে।

দীঘির মাঝামাঝি স্থানে অবকাশ যাপন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য এক সময় মাটির ঢিবি তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু পরে আর সেটি তৈরি করা হয়নি। কিন্তু মাটির ঢিবিটি আজও রয়ে গেছে নান্দনিক ভাবে। দীঘির চারপাশে নারিকেল, সুপারি, শিশু, মেহগনি প্রভৃতি বৃক্ষরোপণ করে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়, যা বর্তমানে দীঘিটির শোভা বর্ধন করে চলছে। দীঘির চারপাশে চারটি সুদৃশ্য বাঁধানো ঘাট থাকলেও পূর্ব-দক্ষিণ পাশের ঘাট দু’টির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিম পাড়ে ঘাট সংলগ্ন স্থানে রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। ইচ্ছা করলে ভ্রমণকারীরা এখানে রাত কাটাতে পারেন।

বরিশাল জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে মধাবপাশা ইউনিয়ন। ঢাকা-বরিশাল রুটে কিছু দুর এগুলেই হাতের বামে মাধবপাশার সড়ক। শহর হতে সিএনজি, অটোরিক্সা কিংবা বাসে করে সহজেই যাওয়া যায় দুর্গাসাগর। সময় লাগবে সর্বোচ্চ আধা ঘন্টা।

দীঘির পশ্চিম পাড়ে ঘাট সংলগ্ন স্থানে রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো অবস্থিত। ইচ্ছা করলে ভ্রমণকারীরা এখানে রাত কাটাতে পারেন। অথবা বরিশাল শহরের যে কোন হোটেলে থাকা যেতে পারে। বরিশাল শহর থেকে অনায়েশেই আসা যাওয়া করে এটি দর্শন করা সম্ভব।