কিন-ব্রিজ

সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত কিন ব্রিজকে সিলেটের প্রবেশদ্বার বলা হয়ে থাকে। ১৮৭৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড নর্থব্রুককে স্বাগত জানাতে যখন আলী আমজাদের ঘড়ি ঘর তৈরি হয় তখন থেকেই সুরমাপাড়ের এই জায়গাটা বিশেষ মর্যাদা পেয়ে আসছে। সিলেট শহরকে দুই ভাগ করে দিয়ে নিরন্তর ছুটে চলেছে সুরমা। দুই পাড় জোড়া দিতে সেই ইংরেজ আমলে তৈরি হয় লোহালক্কড়ের কিন ব্রিজ। ১৯৩৬ সালে আসামের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর আব্দুল হামিদ এবং আসামের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য বাবু প্রমোদ চন্দ্র দত্ত’এর উদ্যেগে এই ব্রীজ তেরি হয়। ব্রীজটি উদ্বোধন করেন আসামের তৎকালীন গভর্নর মাইকেল কিন (Michael Keane) এবং তার নামেই ব্রিজের নামকরণ করা হয়। তবে ব্রিজটি সুরমা ব্রিজ নামেও ব্যাপক পরিচিত। এখানে আরও আছে ঐতিহ্যবাহী সারদা হল আর চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি। সব মিলিয়ে জায়গাটি আকর্ষণীয়।

স্টীলের তৈরী এই ব্রিজটি দৈর্ঘ্যে ৩৯৫মি: এবং প্রস্হে ৫.৫০মি:। তৎকালীন সময়ে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। সময়ের সাথে সাথে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে ২০০৬ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পুনরায় ব্রিজটির মেরামতসহ নদী তীরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। তাতে আকর্ষণ আরো বেড়েছে। সরকারি উদ্যোগে কিন ব্রিজের নিচের সুরমাপাড়টি সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় সিরামিক ইট বিছানো হয়েছে। সুন্দর আলোর সারি ও গাছপালায় জায়গাটি মনোরম। এখন বিকেল হওয়ার আগে থেকেই লোকজন এসে জড়ো হতে থাকে। বিশেষ করে বন্ধের দিনে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

সন্ধ্যার পর যেন আবির্ভাব ঘটে ভিন্ন এক জগতের। রাতের বাতির আলো নদীর বুকে প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করে নানান বর্নের আবহ। আপনি মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকবেন সে আলো আধারির খেলায়।

যে সকল পর্যটক সিলেট ঘুরতে এসে শহরের হোটেলে উঠেন তাদের জন্য বিকেল বেলার একটা মিষ্টি ভ্রমন হতে পারে কিন ব্রিজ ও সুরমাপাড়। বিকেলের হালকা আলো আর সুরমা নদীর বাতাসে বলে চটপটি খেতে মন্দ লাগবে না। তাই ঘুরে আসুন সুরমা পাড়ের কিন ব্রিজ থেকে।

কিন ব্রিজটি শহরের মাঝে অবস্থিত। যে কোন স্থান থেকে রিক্সা করেই যাওয়া যায় এখানে।