এশিয়ার-সবচেয়ে-বড়-বটগাছ

ঝিনাইদহজেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের অন্তর্গত বেথুলী গ্রামেরউত্তর-পশ্চিম কোণে বটগাছটি অবস্থিত যা এশিয়ার সবর্বৃহৎ বটবৃক্ষ। কালীগঞ্জসদর থেকে প্রায় ১০ কিঃ মিঃ পূর্বদিকে কালীগঞ্জ-আড়পাড়া-খাজুরা সড়কেরত্রিমোহনী সংলগ্ন স্থানে এ প্রাচীন বটগাছের অবস্থান।। “সুইতলা-মল্লিকপুরেরবটগাছ” নামে এটি বিশেষভাবে পরিচিত।

গাছটি দুশো বছরের পুরনো। রাস্তারধারে ডাল-পাতায় পরিপূর্ণ গাছটি জনবিরলস্থানে পথিকের বিশ্রামের আশ্রয়স্থল। বটগাছটি একেরপর এক ঝুরি নামিয়েবিরাট আকার ধারণ করেছে। এ স্থানটির মালিক ছিলেন রায় গ্রামের জোতদার নগেনসেনের স্ত্রী শৈলবালা সেন। পরবর্তীতে এটা খাস হয়ে যায়। পূর্বে তিথি অনুযায়ীএখানে পাঠা বলি হতো। এ গাছের নিচে একটি স্থায়ী কালীপূজার আসন স্থাপিতহয়েছে। এখনও মানুষ এখানে মানত করে। বিশ্বব্যাপী গাছটির পরিচিতি ঘটে ১৯৮২সালে বি,বি,সি’র সংবাদ ভাষ্যের মাধ্যমে গাছটি এ এলাকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিএনে দিয়েছে। বহু দেশী-বিদেশী পর্যটক এখানে আসে।

বট গাছটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করেও পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে১৯৯০ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছে একটি রেষ্ট হাউজ। এই ঐতিহ্যকেগুরুত্বসহকারে কাজে লাগালে এ অঞ্চল হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। এই বিস্তৃতবটগাছের দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাখীর কল-কাকলি মুখরিত শীতলপরিবেশ বিমুগ্ধ চিত্তকে বিস্ময় ও আনন্দে অভিভূত করে।

প্রথমে যেতে হবে ঝিনাইদহ সদর। সেখানহতে কালীগঞ্জ শহর হয়ে মল্লিকপুর সুইতলা গ্রাম। অটোরিক্সা/ টেম্পু কিংবাব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে যাওয়া যায় বটতলা। ঝিনাইদহ সদর হতে বটতলার দুরত্ব ২৫কিমি.।

বটতলার পাশেই একটি রেষ্টহাউজ আছে। সেখানে থাকতে পারেন। অথবা রাত্রিযাপনের জন্য ঝিনাইদহ সদরে বেশ কিছু মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে।

বলা হয়ে থাকে বাড়ীটি থেকে নবগঙ্গা নদীর নিচ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ ছিল।সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ এখনো চিহ্নত করা যায়। নদীতে যে ভাবে বাধ দিয়েইমারতটি নির্মান করা হয়েছিল সেভাবে তৈরী আর কোন পুরানো ইমারত ঝিনাইদহ শহরেদেখা যায় না।

বাড়ীটির স্থানীয় ভাবে ব্যাপক পরিচিতির আর একটি বড় কারণ বাড়ীতে থাকাএকটি বিশেষ খেজুন গাছ। যে গাছটিতে একাধিক মাথা ছিল এবং প্রতিটি মাথা থেকেইরস আহোরণ করা যেতো।

ঝিনাইদহ শহর হতে স্থানটির দুরত্ব ০৩কিঃমিঃ। ঝিনাইদহ শহরের যে কোন স্থান হতে অটোরিকসা / রিকসা যোগে আরাপপুরবাসষ্ট্যান্ড হয়ে মুরারীদহ মিয়ার দালানে যাওয়া যাবে।

আবাসন সুবিধা নাই। তবে ঝিনাইদহ শহরে আবাসিক হোটেল আছে। চাইলে অনুমতি নিয়ে ডাকবাংলোতেও থাকতে পারেন।