আন্ধারমানিক

কুয়াকাটার ২০ কিমি আগেই আন্ধারমানিক নদীর তীরে খেপুপাড়া। কেউ বলে কলাপাড়া। খেপুপাড়ার আন্ধারমানিক নদীতে চাঁদনী রাতে পানি জ্বল জ্বল করত। এ জন্য অনেকেই মনে করতেন, এখানে নদীতে মানিক রয়েছে। আর এভাবেই নদীর নাম হল আন্ধারমানিক। খেপুপাড়া রাখাইনদের এলাকা। এখানে বেড়াতে গিয়ে আলাদা এক বৈচিত্র খুঁজে পাবেন।

ছোট শহর খেপুপাড়া। দক্ষিণ পাশ থেকে রয়ে গেছে আন্ধারমানিক নদী। খেপুপাড়া বাজারের অপরদিকে নদীর ওপারে নীলগঞ্জ। আন্ধারমানিক নদী একেবেঁকে আলীপুর হয়ে মিশেছে সাগরে। ২ ঘন্টা সময় হাতে নিয়ে আন্ধারমানিক নদীতে নৌবিহার করুন। আন্ধারমানিক নদীতে নৌকায় বেড়ানোর সময় কাশবন দেখে পুলকিত হবেন। আরও দেখবেন, রাখাইনদের বাড়িঘর। রাখাইন মেয়েদের জল ভরার দৃশ্য দেখে আপনার মনে হয়তো জেগে উঠবে কমলা ঝরিনার গাওয়া সেই বিখ্যাত ‘ওরে ও বিদেশী বন্ধু আমি একলা ঘাটে বইসা থাকি…জল ঢেলে জল ভরিরে বন্ধু…’ গানের কথাগুলো। খেপুপাড়ায় ঘুরে ঘুরে দেখুন রাখাইনদের বাড়িঘর, বৌদ্ধবিহার, জেলেদের পল্লী, মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ, ম্যাচ ফ্যাক্টরি, রাখাইনদের তাঁত শিল্প প্রভৃতি। কলেজ রোড এলাকায় দেখবেন বৌদ্ধ পাড়া। এখানেই রাখাইন সমাজ কল্যাণ সমিতির কার্যালয়। এই কম্পাউন্ডে রয়েছে বৌদ্ধ মন্দির- এটিও ঘুরে দেখুন।

সবকিছু মিলিয়ে নদী ও নদীতীরবর্তী জনজীবন দেখে আপনি পুলকিত হবেন। তাই কুয়াকাটা আসা যাওয়ার পথে কিংবা আলাদা ভাবে হলেও ঘুরে আসুন আন্দারমানিক নদী ও জীবন।

সড়ক পথে বাসে এবং নদীপথে লঞ্চে খেপুপাড়া যাওয়া যাবে। ঢাকা থেকে ঈগল, দ্রুতি কিংবা মেঘনা পরিবহনে খেপুপাড়া পর্যন্ত ভাড়া ২৮০ টাকা। ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় লঞ্চ ছেড়ে যায় খেপুপাড়ার দিকে। প্রায় ১৫ ঘন্টা সময় লাগে। পূবালী লঞ্চে ডাবল বেডের কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। সিংগেল কেবিন ভাড়া ৩০০ টাকা। খুলনা থেকে খেপুপাড়ায় চলাচল করে বিআরটিসি পরিবহন। এতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘন্টা।

রাত কাটানোর জন্য খেপুপাড়ায় আন্ধারমানিক নদী তীরে হোটেল রূপবান আছে। এখানে সিংগেল রুম ভাড়া ৮০ টাকা। ডাবল রুম ভাড়া ১৫০ টাকা। এই হোটেলের ব্যালকনিতে বসে আন্ধারমানিক নদীর দৃশ্য দেখতে পাবেন। নদীর ওপারেই পূর্বদিকে লালুয়া।

এখানের তানজিলা ও ভাই ভাই হোটেলে দেশি মাছ- ইলিশ, বোয়াল, টেংরা, শাপলা পাঁটা, ঘোল মাছ রান্না হয়। বাগদা, গলদা চিংড়িও পাবেন। ভাতের সঙ্গে মাছ খাওয়ার স্বাদই আলাদা। তাই এখানেই হোটেলগুলোতে তৃপ্তিভরে দেশি মাছ খেয়ে নেবেন।