আনন্দনগর

ঢেঁকিতে ধানছাঁটা, গাভীর দুধ দোহন, বাঘের গলা থেকে বকের কাঁটা বের করা, সাপ-বেজিরখেলা, অভ্যর্থনা জানানোর ভঙ্গিতে গোলাপফুল হাতে দাঁড়ানো বিশাল আকৃতিরসুদর্শনা পরী, ঘোড়া, হাঁস, হরিণ, পথনির্দেশনার জন্য ট্রাফিক, গল্পেরকাঁঠালচোর শেয়ালসহ প্রায় একশ’রও বেশি ভাস্কর্য, শিশুপার্ক, খেলনা, ট্রেনলাইনে বাচ্চাদের চড়ার জন্য ছোট ছোট ট্রেনের বহর ও নাগরদোলা। বড় বড়পুকুরে রয়েছে স্পিডবোট, মাছের হ্যাচারি, নানারকম খাবার-দাবারের রেস্তোরাঁ, দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদের জন্য আবাসিক সুব্যবস্থা।

এমন একটি জায়গা রয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জের এক নিভৃত পল্লীতে। নামআনন্দনগর। ছায়াঢাকা পাখিডাকা এ অঞ্চলটি প্রায় ৮০ একর জায়গাজুড়ে অপরূপসৌন্দর্যের উত্স হয়ে উঠেছে। এটা এমন এক জায়গা, যেখানে গিয়ে আপনি কিছুক্ষণেরজন্য ভুলে যেতে পারেন প্রতিদিনের নানা ঝুট-ঝামেলার কথা। মনকে মেলে দিতেপারেন কল্পনার রথে। উড়ে যেতে পারেন মুক্তির সাময়িক আনন্দভেলায় চড়েআনন্দলোকে।

প্রায় দেড়শ’ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা আনন্দনগর পিকনিক স্পটটির প্রধান ফটকেনির্মাণ করা হয়েছে বিশাল আকৃতির কামান হাতে দাঁড়িয়ে থাকা দুই প্রহরী। ভেতরেঢোকার পরেই দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য গোলাপ ফুল হাতে দাঁড়িয়েআছে বিশাল আকৃতির এক সাদা ধবধবে পরী। সামান্য এগোলে দু’দিকে দুটি পথ। কোনপথে যাবেন। পথের নির্দেশনার জন্য আরমান আলী ও হোসেন মিয়া নামের দু’জন হাতউঠিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যাতে পথ ভুল না হয়। বিশালাকার পুকুরগুলোতে রয়েছেস্পিডবোট ও প্যাডেলবোট। এলাকাজুড়ে আম্রকানন। এসব দৃশ্যে খুব সহজে মন ভরেওঠে, নজর কাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওই দৃশ্য। মনোমুগ্ধকর ওই পরিবেশে মন থাকতে চায়কিছুক্ষণ। আনন্দনগরের নির্মাণকাজ এখনও শেষ হয়নি। ব্যক্তিগত ওই পিকনিকস্পটটি গড়ে তুলছেন সাবেক সাংসদ নূর মোহাম্মদ মণ্ডল।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকেপার্কটির দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলা সদরপার হয়ে বড়দরগাহ থেকে পশ্চিম দিকে সরু পাকা সড়কে যেতে হয় প্রায় ৮কিলোমিটার। এছাড়া রংপুরের দর্শনা হয়ে সরাসরি যাওয়া যায়, যাওয়া যায়মিঠাপুকুর থানার সীমানা শঠিবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকেও। আনন্দনগরেরভাস্কর্যগুলো তৈরি করেছেন পীরগঞ্জেরই বাসিন্দা শ্রী শ্যামল চন্দ্র পাল।

আনন্দনগরে রাত্রিযাপন ও খাওয়াদাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। এখানে থাকতে পারেন। কিংবা রংপুর শহরের আবাসিকহোটেলেও রাত্রিযাপন করতে পারেন।