আছরাঙ্গা-দিঘি

জয়পুরহাটজেলার ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নে তুলসীগঙ্গা নদীর পাড়ে প্রায়সাড়ে ২৫ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক আছরাঙ্গা দিঘি। রাজশাহীরতাহেরপুরের রাজা মৌনভট্ট নবম দশকে এই দিঘিটি খনন করেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্বলিত দিঘিিটর চার পাড়ে একই আকৃতির চারটি বাঁধানোঘাট। বড় বড় গাছগুলো দিঘির চারপাশে তৈরি করেছে সবুজ বনানী। ১৯৯৩ সালেপাড়জুড়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফলদ ও বনজ বৃক্ষরাজি লাগানো হয়েছে। সেই বনরাজীআজ আছরাঙ্গা দিঘিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ। ছায়া শীতল পরিবেশ আর ফুরফুরে বাতাসআছরাঙ্গা দিঘিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়। প্রতিদিনই শত শত পর্যটক ওস্থানীয় দর্শনাথর্ীর পদভারে মুখরিত থাকে দিঘির চারিপাশ। শীত মৌসুমে বসেপিকনিকের আসর।

শীতকালে আছরাঙ্গা দিঘিতে দেখা যায় ভিন্ন আর এক রূপ। শত শত দেশী বিদেশীঅতিথি পাখীর কলকাকলীতে মুখরিত থাকে দিঘি প্রান্তর। নীলজলে ভেসে বেড়ায় চেনাঅচেনা হাজারো পাখির দল। এই সময়টা ভ্রমন করার জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়। তাইসময় পেলে একাবার ঘুরে আসুন জয়পুরহাটের আছরাঙ্গা দিঘি। ভাল লাগবে।

দীঘিটির সঠিক কোন ইতিহাস লিপিবদ্ধনা থাকলেও জানা যায় তৎকালীন রাজশাহী জেলার তাহিরপুর আদি রাজবংশেরপুর্বপুরুষ ভট্টনারায়ণের ১৩শ বংশধর মৌন ভট্ট ৯ম শতকে এই দীঘিটি খনন করেন।জনশ্রুতি আছে যে আদিকালে অগ্রাহায়ন মাসে আমন ধানের ক্ষেত পেকে লাল রঙ ধারনকরত বলেই এই এলাকার নাম ক্ষেতলাল হয়েছে।

জয়পুরহাট থেকে বাসযোগে ক্ষেতলালউপজেলার ইটাখোলা বাজারে নেমে ভ্যানযোগে আরো ১০ কিলোমিটার গেলে আছরাঙ্গাদিঘি। জনপ্রতি যাতায়াত খরচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা। জেলার আক্কেলপুর রেলস্টেশনথেকে ট্রেনেও যাওয়া যায়।

জয়পুরহাট জেলা শহরে বেশ কয়েকটিমাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। সেখানেই থাকতে হবে। অথবা সরকারী অনুমতি নেবারব্যবস্থা থাকে সরকারী গেষ্ট হাউজেও থাকে পারেন।