জিম : আজই কেন জয়েন করবেন (৯টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ)

Reviews

Verified

by Mehedi Hasan

ব্যস্ততার শিডিউল আজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এমন কোন ব্যক্তি আপনি পাবেন না যে তার সময় স্বল্পতার ব্যাপারে রুষ্ট নয়। আর এর মধ্যে একটু সময় নিজের জন্য বের করে নিজের স্বাস্থ্য ও শরীরের জন্য জন্য জিমে ব্যয় করাটাতো রীতিমতো অসম্ভব বলে পরিগণিত হয়।

জিমে না যাওয়ার কারন হিসেবে সবাই প্রথমে যে কারণটি দাড়া করায় তা হল সময়ের অভাব। অধিকাংশ ব্যাক্তিকেই বলতে শুনা যায় যে, আমি সময় বের করতে পারলেই জিমে যেয়ে ব্যায়াম করব। আপনার উত্তর ও যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তবে আসলে নিজেই নিজেকে বোকা বানাচ্ছেন।

এভাবে খুজলে সব সময়ই ব্যায়াম না করার জন্য, জিমে না যাওয়ার অনেক অজুহাত পাওয়া যাবে। কিন্তু আপনার কেন ফিট থাকতে জিমে যাওয়া উচিত, প্রত্যহ ব্যায়াম করা উচিত তা নিম্নোক্ত কারণগুলো পড়ে বিবেচনা করে দেখুন :

  • নিজেকে শেপ এ রাখতে আমরা সবাই নিজেকে সবথেকে ভালো অবস্থায় দেখতে এবং রাখতে চাই। আর এর জন্য সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা হল নিজেকে একটা ভালো গঠনে রাখা। আর আপনি যদি নিয়মিত জিমে ব্যায়াম করেন, তবে আপনি নিজের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে একটা কাঙ্খিত গড়ন অর্জন করতে চান।

  • চিরসবুজ চিরদিন আপনি যদি সারাদিন বসে থাকেন আর খাওয়ার উপর থাকেন, তাহলে একটা সময় পর আপনি আপনার বয়সের তুলনায় বুড়িয়ে যাবেন। আপনি যদি জীবনের একটা বড় সময় পর্যন্ত চান আপনার তারুণ্যকে ধরে রাখতে এবং বার্ধক্যকে দমিয়ে রাখতে, তাহলে এখনই কাউচ থেকে উঠুন আর ব্যায়াম করা শুরু করুন। আর জিম হতে পারে আপনার জন্য ব্যায়ামের সবথেকে উত্তম জায়গা।

  • রোগ প্রতিরোধে একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন, আমাদের আশেপাশে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির সংখ্যাটা ভয়াবহভাবে অনেক বেশী। আর এর পিছনে প্রধান প্রভাবক আমাদের নিরুদ্যম জীবনযাপন বা লাইফস্টাইল। তাই আপনি যদি এই ধরণের রোগগুলোর শিকার না হতে চান, তাহলে আজই জিম জয়েন করুন। আপনি নিজেকে শ্রমসাধ্য দেহচর্চায় নিয়োজিত করুন, যাতে এ ধরণের সকল রোগবালাই এর থেকে যথাসাধ্য সম্ভব প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন।

  • স্ট্রেসমুক্ত থাকতে কর্মব্যস্ত আধুনিক জীবন মানেই স্ট্রেস আর স্ট্রেস। আর এই অতিরিক্ত স্ট্রেস আপনাকে ঠেলে দিতে পারে মৃত্যুর মুখে। তার আগেই আপনার এমন কিছু করা উচিত যা আপনাকে এই স্ট্রেস থেকে নিস্তার দেয়। কি হতে পারে যা আপনাকে স্ট্রেসমুক্ত রাখে? সহজ! আজই জিমে যান আর একনিষ্ঠ ব্যায়াম করে নিজের মধ্যের সকল নেতিবাচক শক্তি ঝেড়ে ফেলুন।

  • বিরতির প্রয়োজনে আমাদের অধিকাংশের জীবনটাই কাজ, চাকরি, অফিস আর পরিবার – এই ঘিরেই আবর্তিত হয়। কিন্তু সবারই মাঝে মাঝে প্রয়োজন হয় এই সব কিছু থেকে একটু অব্যাহতি নিয়ে একান্তে নিজের জন্য কিছু সময় ব্যয় করে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার। আর জিমে যেয়ে নিজের শরীরের যত্নচর্চা আপনাকে দিতে পারে এই অতিকাম্য বিরতি।

  • নিদ্রাহীনতাকে বলুন বাই বাই শুধুমাত্র স্ট্রেসপূর্ণ ব্যস্ত শিডিউল পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপের অভাবে একটা বড় অংশের মানুষ অনিদ্রায় ভুগে থাকে। এই নিদ্রাহিন রাতগুলো শুধু আপনার চেহারায় ডার্ক সার্কেলই বাড়ায় না, আপনার কর্মতৎপরতা ও কার্যস্থলে কার্যক্ষমতাও কমিয়ে থাকে। কিন্তু জিমে যেয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ব্যায়ামে নিবিষ্ট করা আপনাকে দিতে পারে এই নিদ্রাহীনতা থেকে নিশ্চিত মুক্তি।

  • স্ট্যামিনা বাড়াতে কোন রকম শারীরিক চর্চা বা কসরত না করা আমাদের স্ট্যামিনার উপর খুব বিরুপ প্রভাব ফেলে থাকে। অন্যদিকে, পরীক্ষায় দেখা যায় যে, নিয়মিত জিমে যেয়ে ব্যায়াম করা আপনার টেস্টোস্টেরন হরমোন লেভেল ও রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে আপনার স্ট্যামিনাও বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে।

  • ঝামেলামুক্ত বার্ধক্য আপনি যদি তরুন বয়সে নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকেন তাহলে আপনার বৃদ্ধ বয়সে আপনি নিশ্চিতভাবে অনেক কম রোগে আক্রান্ত হবেন। আর শারীরিক জটিলতা কম মানেই সুখী জীবন। তাই সুখী জীবনের জন্য এখনই জিমে জয়েন করে ফেলুন।

  • ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বিস্তৃতিতে সোশ্যালাইজিং – এই আধুনিক যুগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আপনার সামাজিক এবং পেশাদারী জীবনে এর প্রভাব অনেক বেশী। আর এই সামাজিকীকরণ এর জন্য একটা উত্তম জায়গা হতে পারে জিম। সমাজের অনেক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সফল ব্যক্তিকেই আপনি জিমে দেখতে পাবেন।

এই কারণগুলোই যথেষ্ট আপনার জিমে জয়েন করার জন্য। তাই আর অপেক্ষা কেন। অজুহাত খোঁজা বন্ধ করুন, আর আজই শারীরিক চর্চায় নিজেকে নিযুক্ত করুন।